Logo

রূপার নেশা ‘বিয়ে’

পূর্ব-পশ্চিম / ১৮৩ বার দেখা
আপডেট : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০

যুবক’দের প্রে’মের ফাঁদে ফেলে অর্থ হা’তিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গা’ইলের ধনবাড়ী উপ’জেলার শাহ’নাজ পার’ভীন রূপা ওর’ফে রিপা (২৩) না’মে এক না’রীর বি’রুদ্ধে। অ’ভিযুক্ত নারী উপ’জেলার মমিনপুর গ্রা’মের ইদ্রিস আলী ম’ণ্ডলের মেয়ে।

অভি’যোগ, একাধিক বিয়ে হলেও নি’জেকে কুমারী দাবি করে বিত্তবান পরি’বারের যুবক’দের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অ’র্থ হাতিয়ে নে’য়াই যার নেশা।

এ ছাড়াও তথ্য গোপন করে সর’কারি চাকরি করছে বলে অভি’যোগ পাওয়া গেছে। এ ঘ’টনায় প্রতারণার শি’কার মিজা’নুর রহ’মান নামে এক যু’বক রূ’পাকে প্রধান আ’সামি করে তার মা শিউলি বেগম ও বোন সীমার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদা’লতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বর্ত’মানে মা’মলাটি ত’দন্ত করছেন টা’ঙ্গাইল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর উপ পরি’দর্শক ফরিদ আ’হমেদ। তিনি জানান, মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

ধন’বাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা সিদ্দিকা জানান, বিষয়টি মাত্র শুনলাম। যদি এরকম কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এনায়েতপুর এলাকার মিজানুর রহমান ২০১৩ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য মালেয়শিয়া গমন করেন। সেখানে থাকাবস্থায় ধনবাড়ি উপজেলার মমিনপুর গ্রামের ইদ্রিস মন্ডলের মেয়ে শাহনাজ পারভীন রূপা ওরফে রিপার সাথে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। একসময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মিজানুর রহমান ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে আসলে তাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়।

রুপা টাঙ্গাইলের সরকারি কুমুদিনী কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত টিউশন, কলেজের বেতন ও হোস্টেল খরচ হিসেবে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে তাদের মধ্যে বিয়ে ঠিক হলে সরকারি চাকরির জন্য মিজানুরের কাছ থেকে আরো আড়াই লাখ টাকা নেয় রূপা।

এরপর শাহনাজ পারভীন রূপা ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পায়। তবে মিজানুর রহমান রুপাকে বিয়ের কথা বললে তিনি বিয়ে করবে না বলে অস্বীকার করেন।

পরে মিজানুর রহমান ও তার পরিবার টাকা ফেরত চাইতে রুপার বাড়িতে গেলে মিজানুরের মাকে এলোপাথারী ভাবে মারধর করে তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন রুপা।

জানা যায়, ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে মধুপুর উপজেলার আম্বাড়ীয়া গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে রোকনুজ্জামানের সাথে পারিবারিকভাবে রুপার বিয়ে হয়। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় পরকীয়া প্রেমে পালিয়ে গিয়ে রোকনুজ্জামানের বন্ধু একই উপজেলার মোল্লাবাড়ী এলাকার মৃত হাজী শহীদ আলীর ছেলে মনির হোসেনের সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।

এরপর আগের দুটি বিয়ের তথ্য গোপন করে তৃতীয় বিয়ে করেন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামের মৃত জালাল বিশ্বাসের ছেলে বি এম সোহেল রানাকে। তাদের বিয়ের কয়েক মাস না যেতে একই এলাকার আলতাফ শেখের ছেলে মজুরুল শেখের সাথে অনৈতিক অবস্থায় ধরা পড়লে এলাকার মাতাব্বর জলিল মুন্সি, ইউসুফ শেখ, কামরুল শেখ, হাবিব হানদার ও বাদশা হানদার সহ এলাকাবাসী সালিশি বৈঠক করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে মুঠোফোনে একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করলেও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে শাহনাজ পারভীন রূপা কোন মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।

একটি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার দাত্তাপাকুটিয়া গ্রামের মামা শামছু উদ্দিন, মামি হেলেনা খাতুনকে পিতা মাতা সাজিয়ে ধনবাড়ী উপজেলার মমিনপুর গ্রামের স্থানীয় ও বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করে জন্ম সনদ ও নাগরিকত্ব সনদ হাসিল করেন রুপা। এ বিষয়ে স্বীকার করে রূপা জানান, শামস উদ্দিন ও হেলেনা খাতুন তার মামা মামি।

সূত্র: পূর্বপশ্চিমবিডি


এই বিভাগের আরও খবর

বিজ্ঞাপন

Theme Created By ThemesDealer.Com
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: