Logo

দৌলতদিয়া ঘাটে চাঁদা আদায় থেকে বাদ যায় না লাশের গাড়িও

Reporter Name / ৬১ বার দেখা
আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

দৌলতদিয়া ঘাটে চাঁদা আদায় থেকে বাদ যায় না লাশের গাড়িও

নানা সমস্যার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি লেগে থাকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। নানা অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পরিচয়পত্র ব্যবহার না করার কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কথা ও ভুয়া টিকিট দেখিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করা হয় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। ফেরিতে জুয়ার ফাঁদ, যাত্রীবাহী বাসের ভুয়া টিকিট বিক্রি, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ব সহ বকশিসের নামে দিতে হয় চাঁদা।

ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ফেরিতে গাড়ী পার্কিং করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) বেতনভুক্ত সদস্যদরা। পদ্মা পারি দিয়ে ফেরি থেকে নামার সময় প্রতি গাড়ী থেকে নেওয়া হয় ১০টাকা করে চাঁদা। চাঁদা থেকে বাদ যায়না রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্স ও লাশের স্বজনেরা। লাশের স্বজনদের দিতে হয় ১০টাকা চাঁদা। চাঁদা না দিলে খারাপ আচরণ করে ফেরিতে দায়িত্ব পালনরত এসব কর্মচারীরা। চাঁদা যেন একটি প্রথায় পরিনত হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার গাড়ী পারাপার হয়। প্রতি গাড়ী থেকে ১০টাকা করে নিয়ে প্রতিদিন ২০হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। মাসে যার অংক দাঁড়ায় ছয় লক্ষ টাকা। বিআইডব্লিটিসির কিছু দুর্নীতিবাজ অফিসার ও সদস্যদের মধ্যে এসব টাকা ভাগ ভাটোরা করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক বলেন, চাঁদা যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। চাঁদা না দিলে খারাপ ব্যবহার করে তারা। যাত্রীরা বলেন দৌলতদিয়া ঘাটে কারা টাকা নেয় সেটা চেনা যায় না। বিশেষ করে আইডি কার্ড প্রদর্শন না করা সহ সুনিদিষ্ট পোশাক না থাকার কারণে অনেক সময় তাদের টাকা গচ্ছা যায়।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিটিসির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, এই বিষয়টি বিআইডব্লিটিসির অন্য একটি বিভাগের যে কারণে আমি কোন মন্তব্য করবো না। বিআইডব্লিটিসির আরিচা কার্যালয়ের মেরিন বিভাগের (এজিএম) মো. আব্দুর সাত্তার মিয়া, চাঁদার বিষয়টি শিকার করে বলেন দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা বলে এটি নেওয়া হয়। তাছাড়া তারা কম বেতন পায় বলে এটি নিয়ে থাকে। তবে লাশের গাড়ী থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকা নেওয়া হয় না যদি কেউ নিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসির) কার্গো ও ফেরী বিভাগের জিএম (কমার্স) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, চাঁদা নেবার কোন সুযোগ নেই। চাঁদার বিষয় বন্ধের ব্যাপারে তিনি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়াতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।


এই বিভাগের আরও খবর

বিজ্ঞাপন

Theme Created By ThemesDealer.Com